ফিরে পাওয়া জীবনে: নতুন এডভেঞ্চারের খোঁজে | বাবলু সাহা | পর্ব ১৩
এই পর্বের শুরুতেই আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা লব্ধ নিজস্ব একটি ছোট্ট ধারণার কথা বলে নিই; পাহাড়ে চড়া বা হিমালয়ের অন্দরে কঠিন পথে ট্রেক করা আমাকে একটি জিনিস শিখিয়েছে, সেটি হচ্ছে, জীবনের কঠিনতম সময় এলে, ভয় না পেয়ে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, সমস্ত রকম বাধা বিপত্তি উপেক্ষা করে, সাহসের সাথে সামনের দিকে এগিয়ে যাও, জয় তোমার আসবেই, আর যদি পুরো পথ না ও অতিক্রম করতে পারি, তবুও যতটা পথ আমি পেরিয়ে এসেছি, সেটাই আমার জীবনের সফলতা, এবং সেখান থেকে ফিরে আসাটাও। এবার লেখার মূল প্রসঙ্গে ফিরে আসি, ওই সামনের উঁচু পাথরের অমসৃণ দেওয়াল টপকানোর জন্য এপার থেকে চেঁচিয়েও অদৃশ্য পিটারের কোন সাহায্যের হাত পেলামনা। অগত্যা ওই নিরেট দেওয়াল থেকে ফাঁকা জায়গা দেখে, বেশকিছুটা দূর থেকে ভারী স্যাক কাঁধে লম্বা একটা দৌড় লাগালাম পাঁচিল লক্ষ্য করে, এবং প্রায় মরিয়া হয়ে ওই খাঁড়া পাঁচিলের হাতের আঙুল আঁকড়ে ধরে, দুই পায়ের পাতার উপরে ভর দিয়ে মারলাম এক লাফ, সজোরে আছড়ে পড়লাম ওপারের ঝুরো মাটিতে। একটু ধাতস্থ হয়ে সামনের দিকে তাকিয়ে দেখি, দূরে দাঁড়িয়ে পিটার ভাবলেশহীন মুখে আমার দিকে চেয়ে আছে, যেন আমার জন্যেই ও অপেক্ষা করছিল। আমাকে দেখে আবার ও পুণরায় চলতে শুরু করলো, এবং আমিও চললাম পিটারের পিছু পিছু। এভাবে বেশ কিছুটা চলার পর হঠাৎ দেখলাম যে, একটি গভীর জঙ্গলাকীর্ণ এলাকায় বড় গাছের নীচে পিটার থমকে দাঁড়িয়ে গেলো; আগেই বলেছি, এই রাস্তা আমার কাছে যেমন একেবারে অচেনা এবং নতুন, তেমনি পিটারের কাছেও তাই-ই। দূর থেকে আমাকে ইশারায় ঠোঁটে আঙুল দিয়ে বোঝালো, আমি যেন আর এক পা ও সামনের দিকে না এগোই, যেখানে আছি সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকি। তারপর কাছে এসে বললো, ও সামনের জঙ্গলে ঢুকে ওর পাহাড়ী অনুসন্ধিৎসু দৃষ্টি দিয়ে, একটি আন্দাজ বা অনুমান করে বুঝে নিতে চায় যে,কোনদিক দিয়ে গেলে ও সঠিক পথের দিশা খুঁজে বের করতে পারবে, যাতে করে ওই দুর্গম রাস্তায় পথ ভুলে গোলকধাঁধায় গুলিয়ে না যায়। পিটার চলে গেলো রাস্তার খোঁজে, আমি ঠায় একজায়গায় দাঁড়িয়েই আছি, বেশ কিছুক্ষণ পর আচমকা পাশের আরেকটি জঙ্গল থেকে বেরিয়েও শিস দিয়ে আমাকে আসতে বললো; শুরু হলো আবার আমার বা আমাদের পথ চলা। অনেকটা লম্বা হাঁটার পর যাওয়ার রাস্তা উঠে গেছে একেবারে খাঁড়া উঁচু চড়াই পথে। চড়াই ভাঙ্গা শেষ হতেই দূরে দেখি বেশ কয়েকটি সাধারণ চালাঘরের শুধু মাথা অর্থাৎ ছাদের চাল দেখা যাচ্ছে। মনে মনে ভাবলাম, এই তো! তাহলে তো আমাদের আজকের পরবর্তী গন্তব্য মাইমাজুয়ায় অবশেষে প্রায় পৌঁছে গেছি।
Comments
Post a Comment