ফিরে পাওয়া জীবনে: নতুন এডভেঞ্চারের খোঁজে | বাবলু সাহা | পর্ব ১০
সেতুর দিকে সোজা তাকালে শুধু ঘন সবুজের জঙ্গল, কোথায় যে লুকিয়ে আছে সেই ঝর্ণা? এটাই খুঁজতে হবে। কোনও রকম শব্দও পাওয়া যাচ্ছেনা, চোখে দেখা তো দূর অস্ত; আমি সেই লোহার জালের লম্বা সাঁকো ধরে চলতে থাকলাম, বেশ কিছুক্ষণ হাঁটার পর অবশেষে সেই সাঁকো পাড় হলাম। ও মা! মাথা নীচু করে হাঁটছিলাম, উপরে চোখ তুলতেই যেন এক লহমায় চোখের সামনে ভোজবাজি! কানে এলো সশব্দে পাহাড়ের অনেক উপর থেকে সজোরে আছড়ে পড়ার জলের শব্দ বা আওয়াজ; একটু দূরেই স্পষ্ট প্রতীয়মান সেই 'টোর্কে' ঝর্ণা, হাতের কাছেই সদ্য সিমেন্টের শেড দেওয়া ওয়াচ টাওয়ার। সে এক অদ্ভুত মায়াবী জগৎ; আচমকাই সম্বিৎ ফিরতেই মনে পড়ল পিটারের কথা, একটু দুর থেকে ঝর্ণার জলের শব্দ ভেদ করে পিটারের উচ্চস্বরে গলার আওয়াজ ভেসে এলো, 'বাবলুদা, তোমার ওই সামনের উঁচু বোল্ডারটা টপকে জলের স্রোত ডিঙিয়ে আমার কাছে চলে এসো, মানে ঝর্ণার জল একেবারে নিচে, যেখানে এসে পড়ে সশব্দে চারিদিকে ছড়িয়ে যাচ্ছে।' ব্যাস, বলা মাত্র আর দেরী কীসের! আমিও সেই পথ অনুসরণ করে একেবারে ঝর্ণার তলায় পিটারের কাছে। ওহ্, এ তো দেখছি যে বিনা পয়সায় প্রকৃতির নিজস্ব পকেটের খরচে খোলা আকাশের নীচে সম্পুর্ণ বিনামূল্যের শাওয়ার। মুহুর্তের মধ্যে সারা গা ঝর্ণার শীতল জলে স্নান হয়ে গেলো। সে কী আনন্দ উচ্ছ্বাস আমার। বেশ কিছুক্ষণ ওই ঠান্ডা ঝর্ণার জলে ভিজে যখন আমি আর পিটার এপারে এসে উঠলাম, তখন হঠাৎ পিটার আমাকে ঝর্ণার একেবারে উপরে আঙুল দেখিয়ে বললো, 'বাবলুদা, কিছু দেখতে পাচ্ছো?' আমি উপরের দিকে অর্থাৎ ঝর্ণার উৎসমুখে ভালো করে তাকিয়েও কিছুই দেখতে বা বুঝতে পারলামনা। পিটার আবার বলল, 'ভালো করে তাকাও।' আরে! অনেক উঁচুতে ঝর্ণা ধারা যেখান থেকে পড়তে শুরু করেছে, ঠিক তার উপরেই মস্ত দুটি কালো-বাদামী ডানা মেলে বসে আছে একটি পাহাড়ি ঈগল। প্রখর সূর্যের আলো তার ডানা ভেদ করে নীচে নেমে এসেছে, এতক্ষণে লক্ষ্য করলাম, ঝর্ণার জল যেখানে এসে ছিটকে পড়ছে, তার ঠিক মুখের চারপাশে সাতরঙা রামধনুর ছ্বটা।
Comments
Post a Comment